মাঙ্গলিক দোষ কি, এর কুপ্রভাব এবং প্রতিকার সমন্ধে বিস্তারিত জানুন।

মাঙ্গলিক দোষ
শেয়ার করুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে :

কথায় আছে  “কপালের লিখন না যায় খণ্ডন “

প্রাচীন কাল থেকে এই কথাটি আমরা লোকমুখে শুনে আসছি  । কারও কপালের লিখন যদি ভালো হয় তাহলে সবাই অনেক খুশি হয় আবার যদি কারও কপালের লিখন খারাপ হয় তখন মানুষ অনেক ভয় পেয়ে যায়। কিন্টু এতো ভয় এর মধ্যে ও মানুষ তার ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে অনেক আগ্রহী ,আর এই আগ্রহের উপর ভোর করেই মানুষ জৌতিষ এর কাছে আসে তার ভবিষ্যত্‍ জানার জন্য। মানুষের কপালের লিখন পূর্বপরিকল্পিত হলেও আগে জানতে পারলে মানুষ কিছুটা সচেতন হতে পারে। আর সচেতনতা তো অনেক সময় এমন ভাবে কাজ করে যে ,মৃত্যু ঘটাবে না বরং অঙ্গচ্যুতি হোক প্রাণ বেঁচে যাবে।

এখই আজকের আলোচনার বিষয়টিতে আসি। “মাঙ্গলিক দোষ” এটি শুনলেই যারা এই বিষয়ে কিছুটা জ্ঞান আছে তারা অনেক ভয় পেয়ে যান। চলুন দেখা যাক “মাঙ্গলিক দোষ” কি। সাধারণ ভাবে আভিধানিক অর্থ বলে, মাঙ্গলিক শব্দের অর্থ হলো মঙ্গল বা শুভকার্য বা মঙ্গলজনক উপাচার বুঝি। 

মঙ্গল এমন একটি গ্রহ যার প্রভাব সকলেই ফল ভোগ করে। মঙ্গল গ্রহের প্রভাবে মানুষ  ঐশী, ব্যক্তিত্ব, দৃঢ়তা , প্রতিষ্ঠা,সাহসিকতা  ইত্যাদি  জাতীয় গুনে গুনানিত্ব হয় । মঙ্গল কারোর জন্মছকে  লগ্নে, কারোর ছকে কোন না কোন  ঘরে অবিস্থান করে। কিন্তু তাতে সব ফলই যে দোষযুক্ত হয় তা নয় । জ্যোতিষ গবেষণা মতে পাওয়া যায় , জাতক বা জাতিকা প্রত্যেকের দশা অন্তদশা থাকে। আর জাতিক বা জাতিকার জন্মকালীন দশায় যদি মঙ্গল ১, ৪, ৭, ৮ বা ১২ নম্বর দশায় থাকে তবে তা দুষ্ট প্রভাব দান করবে। অর্থাত্‍ জাতক বা জাতিকার জন্মছকে এই সকল দুষ্ট গ্রহের প্রভাব থাকে সে জাতক বা জাতিকা মাঙ্গলিক হবে। কিন্তু এখানে সে আংশিক বা নিন্ম  মাঙ্গলিক ও হতে পারে। কিন্তু এর প্রভাব কি? এই উদ্দিষ্ট ঘরে মঙ্গলের যে বৈশিষ্ট্য রাগ, অভিমান শরীরের সাথে মানে লগ্ন থেকে ক্রিয়া করে। লগ্ন হলো মানবিক শরীর। এই শরীরে মঙ্গল তার বৈশিষ্ট্যগুলিতে প্রভাব বিস্তার করে। আর অবচেতন মনের মতই সেই প্রভাবিত অংশে মঙ্গল তার বৈশিষ্ট্য নিয়ে প্রভাব দেয়।এটা অনেকটাই রক্তের গ্রূপের সাথে তুলনা করা যাই এক এক গ্রূপের রক্তে যেমন এক এক বৈশিষ্ট থাকে তেমনি এটি এক এক জাতক বা জাতিকার জন্মোচক অনুযায়ী ফল দিয়ে থাকে । 

“মাঙ্গলিক দোষ” থাকলে কি হয়?

অনেকের মনে ইটা প্রশ্ন আসে যে “মাঙ্গলিক দোষ” থাকলে তা জীবনেকি কি প্রভাব ফেলতে পারে। জ্য়োতিষশাস্ত্র মতে  মাঙ্গলিক দোষ থাকলে সেই ব্যক্তির বিবাহিত জীবনে অত্যন্ত কঠিন সময়। বিবাহিত জীবনে সুখ যেমন সোনার হরিনের মতো হয়ে যায়। যাঁরা মাঙ্গলিক হন, তাঁদের বিবাহিত জীবনে অশান্তি, ঝগড়া লেগেই থাকে। স্বামী, স্ত্রীর মনের মিলন হয় না সহজে। দুজনার সম্পর্ক যেন সাপ নেওলার মতো হয়ে যাই। একে অপরকে একেবারেই সহ্য করতে পারে না। এর কোনো প্র্রতিকার না করলে এমনকি বিবাহ বিচ্ছেদও হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও  মঙ্গল দোষ এর প্রভাবে জাতক জাতিকার শারীরিকভাবে বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে । যদি স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে একজনের মঙ্গল দোষ থাকে তাহলে স্বামীর থাকলে স্ত্রী অথবা স্ত্রী থাকলে আমি অনেক অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।  তাই মাঙ্গলিক দোষ থাকলে সব সময় সাবধান থাকতে হবে ।

তাই মাঙ্গলিক দোষ থাকলে জীবন কখনও সুখের হয় না। তাই বিবাহের পূর্বে অবশ্যই জাতক জাতিকার মাঙ্গলিক দোষ আছে কিনা তা নির্ণয় করে নিতে হবে ।

মাঙ্গলিক দোষ
মাঙ্গলিক দোষ | image By Pexels

“মাঙ্গলিক দোষ” থাকলে কি কি নিয়ম মানতে হবে।

পাত্র পাত্রীর জন্ম ছকে মাঙ্গলিক দোষ থাকলে অবশ্যই বিবাহের আগে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে । এ সকল নিয়ম কানুন না মানলে দাম্পত্য জীবনে কষ্ট স্বামী বা স্ত্রীর শারীরিক পীড়া এবং অতিরিক্ত শুভ প্রভাবে কখনো কখনো বৈধব্য যোগ দেখা যায় ।তাই কোন জাতক-জাতিকার মাঙ্গলিক দোষ থাকলে খালি যোটক বিচার করলেই চলবে না বরং ভালো কোন জোতিষী এর মাধ্যমে মাঙ্গলিক দোষ ঠিক করা আবশ্যক । তাই আপনি যদি মাঙ্গলিক হন তবে অবশ্যই নিচের নিয়ম কানুন গুলো মেনে চলুন তাহলে হয়তো অতি খারাপ অশুভ ফল থেকে কিছুটা রক্ষা পেতে  পারেন ।

  • সর্বদা নিজের আচরণ ঠিক এবং সংযত রাখুন ।
  • স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে কখনো মিথ্যে বলবেন না ।
  • স্বামী বা স্ত্রী কখনও একে অপরের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেবেন না ।
  • একে অপরকে কখনো বাজে ভাষায় গালাগালি করবেন না।
  • মদ্যপান থেকে দূরে থাকুন।
  • প্রতি মঙ্গলবার মাছ-মাংস পরিহার করে নিরামিষ আহার গ্রহণ করুন ।
  • কারো কাছ থেকে বিনামূল্যে কোন জিনিস গ্রহণ করবেন না । 
  • যাদের কোনো সন্তান নেই তাদের কাছ থেকে কোনো সম্পত্তি ক্রয় করবেন না ।
  • বাড়ির মুগ দক্ষিণমুখী হলে সেই বাড়িতে না থাকাই শ্রেয় ।
  •  প্রতিদিন সকালে উঠে মধু পান করবেন ।
  •  মিষ্টি বানিয়ে নিজেও খেতে পারেন এবং অন্যকেও খাওয়াতে পারেন ।
  •  নিজের জন্মদিন অন্তত ১০ থেকে  ১৫ জনকে মিষ্টি খাওয়ান ।  আপনার বোন অথবা যে কোন মেয়েদেরকে মিষ্টি খাওয়াতে পারেন ।
  •  নিজের স্ত্রীকে সম্মান এবং তার সকল সুযোগ সুবিধার দিকে নজর রাখুন ।
  • আত্মীয়দের সাথে সর্বদা ভালো সম্পর্ক বজায় রাখুন ।
  •  আপনার আশেপাশে কোন বিধবা থাকলে তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করতে পারেন ।
  •  লোহার তৈরি কোন অস্ত্র বা  অস্ত্র জাতীয় জিনিস বাড়িতে রাখবেন না ।

“মাঙ্গলিক দোষ” নিবারণের বিশেষ কিছু উপায় বা টোটকা।

মাঙ্গলিক দোষ
মাঙ্গলিক দোষ | image By Pexels

মাঙ্গলিক দোষ থেকে নিবারণের জন্য কিছু বিশেষ কিছু উপায় টোটকা রয়েছে এগুলো মেনে চললে মাঙ্গলিক দোষ থেকে কিছুটা রক্ষা পাওয়া যায় । যদি আপনি মাঙ্গলিক হয়ে থাকেন তবে অবশ্যই নিচের টোটকা গুলো মেনে চলুন ।

  • মঙ্গল দোষ কাটানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো যদি জাতক-জাতিকা দুজনই মাঙ্গলিক হয় এবং তাদের মধ্যে বিবাহ হয় তবে দুজনেরই এই মঙ্গলের দশা কেটে যায়  তাই একজন মাঙ্গলিক জাতকের অবশ্যই একজন মাঙ্গলিক জাতিকাকে বিয়ে করা উচিত  ।
  • জ্যোতিষীরা মাঙ্গলিক দোষ কাটানোর জন্য কিছু উপায় বের করেছেন  তাদের মধ্যে কুম্ভ বিবাহ নামে একটি রীতির প্রচলন রয়েছে  । এই রীতিতে মাঙ্গলিক জাতক বা জাতিকা কে একটি কলা গাছ বা পিপুল গাছ অথবা ভগবান বিষ্ণুর একটি স্বর্ণ বা রৌপ্য  মূর্তি সাথে বিয়ে দেওয়া হয়  ।
  • নিয়ম করে প্রতি মঙ্গলবার উপবাস রাখলে এবং শুধুমাত্র অড়হর ডাল সেবন করলে আস্তে আস্তে কেটে যায় এই দশা।
  • মঙ্গল দোষ কাটানোর জন্য অবশ্যই প্রতি মঙ্গলবার নবগ্রহ মন্ত্র উচ্চারণ করুন নবগ্রহ মন্ত্র উচ্চারণ করলে মঙ্গল দোষ কেটে যায় আবার প্রতিদিন ১০৮ গায়ত্রী মন্ত্র জপ করলে ও হনুমান চল্লিশা পাঠ করল মঙ্গল দোষ কেটে যায় 
  • মঙ্গলবার দানধ্যান করলেও তুষ্ট হন মঙ্গলদেব। এছাড়া তলোয়ার, ছুরি, মুসুর ডাল, লাল সিল্ক, রক্তপ্রবাল ইত্যাদি লাল বস্তু নিবেদন করলেও সন্তুষ্ট হন তিনি।
  • হনুমান পূজা করে তার প্রসাদ সকলকে দান করতে পারেন ।
  •  যদি আপনি হনুমান মন্দিরে লালবাবা সিঁদুর দান করেন তাহলে অনেক উপকার হবে ।
  •  প্রত্যহ সকালে উঠে গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ করুন।
  • দেবী দুর্গার একটি ছবি অবশ্যই আপনার বাড়িতে ঝুলিয়ে রাখবেন।
  •  একটি লাল রুমাল সব সময় আপনার সাথে রাখতে পারেন।
  •  যেকোনো একটু রুপার গয়না দেহ ধারন করতে পারেন যেমন আংটি ।
  • আটা দিয়ে রুটি বানিয়ে তা কালো কুকুর কে খাওয়াতে পারেন।
  •  প্রতি মঙ্গলবার নদীর স্রোতের জলে যে কোন মিষ্টি জাতীয়  খাবার বিসর্জন দিন।

যাদের মঙ্গল গ্রহে থাকে তাদের শাহজাহান কতটুকু রক্ত প্রবাল ধারণ করতে বলা হয়  তবে কোন রত্ন ধারণ করার পূর্বে অবশ্যই একজন ভালো  জ্যোতিষশাস্ত্রীর শরণাপন্ন হতে হবে ।বিবাহের পূর্বে অবশ্যই মঙ্গল দোষ বিচার করুন এবং ভালো জ্যোতিষ যারা পূজা পাঠ করি আপনার মঙ্গল দোষ কাটিয়ে নিন ।


আরো পড়ুন


শেয়ার করুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে :
Scroll to Top